Header Ads

সাড়ে ৫ বছরে নিখোঁজ ৫০২ জন

গত ৫ বছরে সারা দেশে নিখোঁজ ৬১৮ জনের মধ্যে পুলিশ ৭৮ জনের লাশ উদ্ধার করেছে। অপহরণের পর ভাগ্যক্রমে মুক্তি পেয়েছেন ৫১ জন। দীর্ঘদিন পর পুলিশ ১১ জন, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ৪ এবং র‌্যাব ৩৪ জনকে গ্রেফতার দেখিয়েছে।


বিভিন্ন পুরনো মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে পাঁচজনকে পাঠানো হয়েছে কারাগারে। বাকি ৪৬৯ জনের হদিস মেলেনি আজও। এছাড়া চলতি বছরের প্রথম আট মাসে অপহরণের ঘটনা ঘটেছে ৪৫টি। এর মধ্যে ছেড়ে দেয়া হয়েছে ৭ জনকে। লাশ মিলেছে ২ জনের। পরবর্তীতে গ্রেফতার দেখানো হয়েছে ৩ জনকে। বাকি ৩৩ জন কোথায় আজও জানতে পারেনি তাদের স্বজনরা। এ তথ্য মানবাধিকার সংগঠন অধিকার এবং অন্য সূত্রের। সর্বশেষ গত এক সপ্তাহে খোদ রাজধানী থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে তুলে নেয়া হয় ব্যাংক কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ীসহ ৫ জনকে। এ ৫টি অপহরণের চিত্র প্রায় একই রকম। তবে ভাগ্যক্রমে সোমবার রাতে ৫ দিন পর ফিরে এসছেন আইএফআইসি ব্যাংকের কর্মকর্তা শামীম আহমদ।

ব্যাংক কর্মকর্তার স্ত্রী শিল্পী আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, সোমবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে অপরচিতি একটি নম্বর থেকে তাকে ফোনে মতিঝিলে একটি গাড়ি পাঠাতে বলা হয়। পরে তাকে উদ্ধার করা হয়। তখন তার স্বামীর চোখ বাঁধা ছিল বলে জানান শিল্পী আক্তার।

গত বুধবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে পুরানা পল্টনে আইএফআইসি ব্যাংকের পেছন থেকে সাদা মাইক্রোবাসে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয় আইএফআইসি ব্যাংক কর্মকর্তা শামীম আহমেদকে। অপহরণ থেকে ফিরে আসলেও রহস্যজনকভাবে কেউ মুখ খুলছেন না।

অন্যদিকে এখনও যারা নিখোঁজ রয়েছেন তাদের স্বজনদের নীরব কান্নাও যেন শোনার কেউ নেই। হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর সন্ধান পেতে তাদের স্বজনরা সাধারণ ডায়েরি এবং মামলা করলেও তাদের উদ্ধারে নেই পুলিশি তৎপরতা। কোনো কোনো মামলার তদন্ত থমকে আছে মাঝপথে। ফলে গুম হয়ে যাওয়া মানুষগুলোর স্বজনরা জানতে পারছেন না, কেমন আছেন বা আদৌ বেঁচে আছেন কিনা তারা?

গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর নিখোঁজদের তালিকা প্রকাশ করে পুলিশ সদর দফতর। ওই তালিকার ৫৭ জন এখনও নিখোঁজ। অন্যদিকে গুলশান হামলার ১৮ দিনের মাথায় র‌্যাব ২৬৭ জনের নিখোঁজ তালিকা প্রকাশ করে। তবে পরবর্তীতে ওই তালিকায় ত্রুটি থাকার কথা বলে র‌্যাব ও পুলিশের তালিকা ধরে সর্বশেষ ৭০ জন নিখোঁজ রয়েছে বলে জানায় পুলিশ সদর দফতর।

আদালত ও পুলিশ সদর দফতর বলছে, গত ৫ বছরে নিখোঁজের ঘটনায় সারা দেশে ৩২২টি মামলা ও ৬১৫টি সাধারণ ডায়েরি করেন তাদের স্বজনরা। এর মধ্যে ২০৮টি মামলার চূড়ান্ত রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। অন্যদিকে অপহরণ কিংবা নিখোঁজের ঘটনার একটিতেও অভিযোগপত্র (চার্জশিট) দাখিল করতে পারেনি পুলিশ।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পুলিশ সদর দফতরের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা কামরুল আহছান বলেন, বিস্তারিত খোঁজ না নিয়ে কথা বলা সম্ভব নয়। তিনি খোঁজ নিয়ে পরবর্তীতে জানাবেন বলে জানান যুগান্তরকে।

এমনি পরিস্থিতিতে আজ ৩০ আগস্ট বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিক দিবস (ইন্টারন্যাশনাল ডে ফর দ্য ডিসপরাড)। সারা পৃথিবীতে গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণে আন্তর্জাতিকভাবে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে।

২০০৬ সাল থেকে সব ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক সনদ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত হয়। আজকের দিনে হারিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর স্বজনদের একটাই প্রত্যাশা- এই অপেক্ষা যেন শেষ হয়। আর যেন বুকভরা ব্যথা নিয়ে তার প্রিয় মুখটির অপেক্ষায় কাউকে দরজার দিকে তাকিয়ে না থাকতে হয়।
Powered by Blogger.