Header Ads

বর্তমান সময়ে ইসলামী রাজনীতি ফরজ- মুফতী মিজানুর রহমান সাইদ


বরাবর,
মাননীয় প্রধান মুফতি সাহেব দা.বা.
শায়খ যাকারিয়া ইসলামিক রিসার্চ সেন্টার
কুড়াতলী,খিলক্ষেত, ঢাকা-১২২৯
বিষয়: ইসলামিক রাজনীতি প্রসঙ্গে
জনাব, আমি একজন ইউনিভার্সিটির ছাত্র, প্রায়
সময় ইসলামিক দলগুলো অনেক দলীল প্রমান দিয়ে
আমাদেরকে বুঝায় যে, বর্তমান সময় ইসলামী
রাজনীতি করা ফরজ।
জনাব, আমার জানার বিষয় হলো ইসলামে
রাজনীতি করা জায়েয আছে কি-না? যদি থাকে
তাহলে এসব ইসলামী দলগুলোর কোন একটিতে
অন্তর্ভূক্ত হওয়া যাবে কি-না? দলীল প্রমানসহ
জানিয়ে বাধিত করবেন।
নিবেদক
মুহা. হাবিবুর রহমান
ঢাকা
ﺍﻟﺠﻮﺍﺏ ﺑﺎﺳﻢ ﻣﻠﻬﻢ ﺍﻟﺼﺪﻕ ﻭﺍﻟﺼﻮﺍﺏ
শরয়ী দৃষ্টিতে ইবাদাত মূলত ২প্রকার-
১. ﻋﺒﺎﺩﺓ ﺑﻼ ﻭﺍﺳﻄﺔ তথা ঐ সমস্ত কথা বা কাজ যা
ইবাদাত হওয়ার জন্য অন্য কোন কিছুর সাহায্য
নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। যেমন:
নামায,রোযা,যিকির,তেলাওয়াত ইত্যাদি।
২. ﻋﺒﺎﺩﺓ ﺑﺎﻟﻮﺍﺳﻄﺔ তথা ঐ সমস্ত কথা বা কাজ যা
সাধারণভাবে ইবাদাতের অন্তর্ভূক্ত নয়। তবে সঠিক
নিয়ত ও সুন্নাতের অনুসরনের দ্বারা তা ইবাদাতে
রুপান্তরিত হয়। যেমন: সুন্নাতানুযায়ী পানাহার,
ঘুম, হালাল উপার্জনের উদ্দেশ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য
করা ইত্যাদি।
ঠিক একইভাবে রাজনীতি কোন সরাসরি ইবাদাত
নয়। তবে রাজনীতি যদি আল্লাহর বিধান,
সামাজিক ও রাষ্ট্রীয়ভাবে বাস্তবায়নের
উদ্দেশ্যে ও শরীয়ত স্বীকৃত পন্থায় করা হয় তাহলে
তা ইবাদাত ও সওয়াবের কাজ হিসেবে গণ্য এবং
ফরজে কেফায়ার অন্তর্ভূক্ত। তবে রাজনৈতিক দল
নির্বাচনের ক্ষেত্রে পরিপূর্ণ সতর্কতা অবলম্বন করা
জরুরী। কেননা উপরে উল্লেখ করা হয়েছে যে,
রাজনীতি বৈধ ও সওয়াবের কাজ হওয়ার জন্য সঠিক
উদ্দেশ্য থাকার পাশাপাশি শরীয়ত সম্মত পন্থায়
হওয়াও আবশ্যক। তাই ইসলামী রাজনীতির জন্য এমন
রাজনৈতিক দলকেই বেচে নেওয়া উচিত যারা
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকীদায় বিশ্বাসী
ও অভিজ্ঞ উলামায়ে কেরামের পরামর্শ ও দিক
নির্দেশনায় পরিচালিত।
[সূরা বাকারা:৩০,আদিল্লাতুস শারইয়া:৮৬১৪৬,
শরহে আকাইদ নসফী:১৫২,ফাতাওয়ায়ে
মাহমুদিয়া:২০/৪৩৩, ইসলাম আওর সিয়াসী
নজরিয়্যাত:১৬৪]
Powered by Blogger.